সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ১লা আশ্বিন ১৪২৮

বিচার : আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ


প্রকাশিত:
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৫৫

আপডেট:
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৫৭

 

এই সাতসকালেই বশিরউদ্দিনের বাড়িতে অবনি বাবু এসে উপস্থিত। বড় ধরনের কোন বিপদের ইঙ্গিত পেয়ে বশিরউদ্দিন তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বের হয়ে এলো।
‘ঘটনা কি শুনেছ বশির?’
‘কোন ঘটনা অবনি বাবু?’
আগে অবনি বাবুকে বশিরউদ্দিন কাকা বাবু বলে ডাকলেও কিছুদিন হলো অবনি বাবু বলে ডাকতে শুরু করেছে। ব্যবসার উন্নতির সাথে সাথে বশিরউদ্দিনের বোল পালটেছে সত্য কিন্তু দোষটা অবনি বাবুরই। বশিরউদ্দিনকে সে বলেছিল, ‘এলাকার সব থেকে বড় ব্যবসায়ী হিসাবে সবাইকে তুমি নাম ধরে ডাকতে পার। সম্মান প্রদর্শণের জন্য আগে পরে বাবু কিংবা সাহেব বসিয়ে নিলেই চলবে।’ তবে নিজের উদ্ভাবিত তত্ত্বে নিজেকেই যে দংশিত হতে হবে তা আগে বুঝতে পারেনি।
বশিরউদ্দিন অবনি বাবুকে নিয়ে ঘরের বারান্দায় এসে বসল। চেয়ারটা টেনে বশিরউদিনের আরো নিকটে এসে একটু উচ্চ কন্ঠে অবনি বাবু বলল, যেন অন্দর মহল থেকেও শোনা যায়, ‘করিমনের নাকি বাচ্চা হয়েছে!’
বশিরউদ্দিন চার হাতপায়ে লাফ দিয়ে উঠল, ‘বলেন কি! আল্লাহর গজব নয় তো?’
এক খিলি পান মুখে পুরে চিবাতে চিবাতে অবনি বাবু বলল, ‘কলিকালে আরো কতো কি দেখতে হবে কে জানে! শোন বশির ঘটনা কিন্তু সাংঘাতিক।’
এ গ্রামের এমন কেউ নেই যে করিমনকে চেনেনা। বয়স ষাট হলেও গায়ে তার যথেষ্ট শক্তি সামর্থ্য আছে। বিধবা মহিলা। একমাত্র মেয়ে ছাড়া এ পৃথিবীতে আপন বলতে আর কেউ নেই। মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবার পর থেকে করিমন একেবারেই একা। সারাক্ষণ বাজারে থাকে। এদোকান ওদোকানে কাজ করে। কোন কাজেই তার আপত্তি নেই। তাছাড়া শারিরীক সামর্থ্যে পুরুষের থেকে কোন অংশেই কম নয় সে। আবার চাহিদাও কম। বাসাবাড়িতে কাজ করার ডাকও পায় করিমন। একদিনেই অনেক কাজ করে দিয়ে আসে।
গত তিন মাস ধরে করিমনের কোন খবর নেই। এটা নিয়ে জল্পনা কল্পনা কম হয়নি। কেউ বলে করিমন মারা গিয়েছে। কেউ বলে শহরে গিয়ে কাজ নিয়েছে। আবার কেউ কেউ এমন কথাও বলে যে আদম ব্যাপারীরা তাকে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। ওই সব ঘটনা গুলোর কোনটাই কেউ বিশ্বাস করেনি যদিও ঐগুলো ঘটা মোটেই অসম্ভব ছিল না। তবে করিমনকে নিয়ে এবারের গুজবটা একেবারে অবাস্তব হলেও কোন এক বিচিত্র কারণে সবাই এটাকেই সত্য বলে ধরে নিয়েছে।
সন্ধ্যায় বাজারে একটা জরুরী মিটিং বসল। গ্রামের সব গণ্যমান্য জন উপস্থিত। কমল ভট্টাচার্য এলাকের মেম্বর। বড় চেয়ার খানা সবসময় তার জন্যই বরাদ্দ। তবে ইদানিং ঐ চেয়ারের পাশে একইরকম আর একখানা চেয়ার শোভা পায় বশিরউদ্দিনের জন্য। কমল ভট্টাচার্য বুঝতে পেরেছেন তার ত্রিশ বছরের রাজত্ব প্রায় শেষ। বিচার-আচারে তিনি আসেন ঠিকই তবে বশিরউদ্দিনের কথাতেই সবকিছু হয়। বিষয়টা তিনি একরকম মেনেই নিয়েছেন। সভায় সিদ্ধান্ত হলো আগামি শুক্রবার বিকালে স্কুল মাঠে করিমনের বিচার হবে। করিমনের এই কুকর্মের সঙ্গী কোন পুরুষ মানুষ তা নিয়ে উপস্থিত জনদের উৎসাহের কমতি ছিলনা বটে তবে ঐ পুরুষ মানুষটারও যে বিচার করা প্রয়োজন তা নিয়ে কারো কোন চিন্তাও ছিল না।
রাতের আহার শেষে বিছানার উপরে বালিশে হেলান দিয়ে পান চিবানোর সময় বশিরউদ্দিনের ছোট বৌ রাহেলা একটা পানের ডিব্বা নিয়ে পাশে এসে বসল, ‘শোনেন, আপনাকে একটা কথা বলি, করিমনকে আবার দোররা মারার হুকুম দিয়েন না। এই বয়সে দোররা সহ্য করতে পারবে না। মারা যাবে। তাছাড়া করিমনের ছেলে একটু বড় হলে আমাদের বাড়িতে কাজে রাখা যাবে। দেশে এখন কাজের লোকের খুব অভাব। সবাই শুধু ঢাকা দৌড়ায়।’
বৌ’র হাত থেকে একখিলি পান নিয়ে বশিরউদ্দিন বলল, ‘বিষয়টা আমিও চিন্তা করে দেখেছি। দেখা যাক কি করা যায়। আমার মনে হয় কমল বাবুও একই চিন্তা করে রেখেছে। মিটিং শেষে তার সাথে একটু কথা হলো। তখনই এটা বুঝতে পারলাম। তবে অবনি বাবুকে নিয়ে বিপদেই আছি। সারাক্ষণ কমল বাবুর পিছনে লেগেই আছে। এই বিষয়টাতেও কমল বাবুকে জড়াতে চাচ্ছে। কমল বাবু আমার প্রতিপক্ষ হতে পারে কিন্তু তার চরিত্র নিয়ে আমার মনেও কোন সন্দেহ নেই। ইলেকশনের আর মাত্র ছয় মাস বাকি। এই সময় কমল বাবুর চরিত্র নিয়ে কথা বলে নিজের উপর বিপদ ডেকে আনতে চাইনা।’ অপরের চরিত্র নিয়ে সন্দেহ না থাকলেও নিজের চরিত্রের খাদটুকু বশিরউদ্দিনের ঠিকই জানা আছে তাই ভয়ও হয় – প্রতিপক্ষরা আবার কি জানি কি রটায়।
দুই দিনের মধ্যেই ঘটনাটা বহুমুখে বহু ভাবে ছড়িয়ে পড়ল। এরকম একটা ঘটনা ছড়ানোর জন্য মানুষকে খুব একটা কষ্ট করতে হয়না। এই সব ঘটনার মধ্যেই এমন একটা শক্তি থাকে যা নিজেকেই নিজে বেগবান করে। তবে মানুষের স্পর্শ ছাড়া তা রঙিন হয়ে ওঠে না। তাই তো মানুষ রং মাখায়। আর রঙে রঙে রঙিন হয়ে ঘটনা পায় বহু মাত্রা। সৃষ্টি হয় শাখা প্রশাখা।
কমল ভট্টাচার্যের বাড়িতেই করিমনের বেশি যাতায়াত ছিল। তাই ভট্টাচার্য মশায়ের নাক কাটার মোক্ষম সুযোগটি হাতের কাছে পেয়ে তা নষ্ট করার মতো বোকা অবনি বাবু নয়। কেউ কেউ এমন কথাও শুনল যে কমল ভট্টাচার্য অনেক আগেই করিমনকে বিয়ে করেছে। এহেন অবস্থায় কমল ভট্টাচার্য তার অনুগত কয়েক জনকে নিয়ে জরুরী মিটিংএ বসল। সিদ্ধান্ত হলো বিচারের আগে অবনি বাবুকে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে তারা বিচার বর্জণ করবে। মিটিং শেষ হলে কমল ভট্টাচার্য ফিরোজকে বলল, ‘তুমি একটু বস। তোমার সাথে দু’একটা জরুরী কথা আছে।’
গ্রামের উঠটি নেতাদের মধ্যে একমাত্র ফিরোজই কমল ভট্টাচার্যর সাথে আছে। এটা ফিরোজের নির্বুদ্ধিতা নয় বরং তার বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। বশিরউদ্দিনের দলে এখন ফিরোজের মত লোকের অভাব নেই তাই সেখানে গুরুত্ব পাওয়াটা বেশ মুশকিল। আর কমল ভট্টাচার্যের এখানে ফিরোজের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফিরোজের একেবারে নিকটে বসে কমল ভট্টাচার্য বলল, ‘করিমন আর ওর ছেলেকে নিয়ে আমি কি চিন্তা করেছি তা তোমাকে আগেই বলেছি। বাসা বড়িতে কাজকর্ম করার লোক খুঁজে পাওয়া এখন দুষ্কর। কিন্তু অবনি বাবু যেভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে......’
‘ওসব নিয়ে আপনি ভাববেন না। সমস্ত বিষয় আমি সামলাব। আপনার চরিত্র নিয়ে কারো মনে কোন দিন কোন সন্দেহ ছিল না এবং থাকবেও না। অবনি বাবু আর বশিরউদ্দিনের চরিত্র কেমন তা এ গ্রামের সবারই জানা আছে।’
বিচারের দিন উপস্থিত। ছোট স্কুল মাঠটি মানুষের সমাগমে কম্পিত হয়ে উঠেছে। বিচারের সিধান্ত নয় বরং করিমনকে এক পলক দেখাটাই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। বিচারের শুরুতেই এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ও হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি বিষয়ক একখানা নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিলো বশিরউদ্দিন। প্রায় ঘন্টা দুই আলাপ আলোচনা শেষে প্রাথমিক ভাবে সিধান্ত নেয়া হলো আগামী পাঁচ বছর করিমন এ গ্রামে অবস্থান করতে পারবে না। রুস্তম মোল্লা অনেক চেষ্টা করেছিল যাতে দোররা মারার সিধান্ত হয়। কিন্তু বশিরউদ্দিন কিংবা কমল ভট্টাচার্য কারো কাছ থেকেই এ বিষয়ে কোন সহযোগিতা পায়নি। জনতার মধ্য থেকে প্রশ্ন উঠল, করিমন যেহেতু এ গ্রামে আর থাকে না তাই তাকে এ গ্রাম থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ নিরর্থক নয় কি? স্কুলের হেডমাস্টার মোজাম্মেল সাহেব এতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলেন। সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার মতামত চাওয়া হলে তিনি বললেন, করিমনের অনুপস্থিতিতে এই বিচার তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তাছাড়া ঘটনার সত্যতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ষাটোর্ধ্ব একজন মহিলার পক্ষে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া যে অসম্ভব সে বিষয়টা তিনি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন।
বশিরউদ্দিন চোখ কপালে তুলে বলল, ‘বলেন কি মাস্টার সাহেব, তাইলে আমরা সবাই যা জানি তা কি ভুল?’
‘তোমার আমার জানা না জানার উপর সত্য নির্ভর করবে না। সত্য চিরদিনই সত্য, তা তুমি জানো বা না জানো।’
বশিরউদ্দিন ভিতরে ভিতরে খেপল ঠিকই তবে কিছুই বলল না, সামনে ইলেকশন তাই।
ঘটনার সত্যতা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। এমন কাউকে পাওয়া গেল না যে সরাসরি করিমন কিংবা তার মেয়ে বা তার মেয়ের জামাই এর সাথে কথা বলেছে। বশিরউদ্দিনের একান্ত অনুগত রুস্তম মোল্লা সবাইকে বুঝানোর চেষ্টা করল সব ঘটনাই দেখে বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই। না দেখেও আমরা কতো কিছু বিশ্বাস করি। তাছাড়া করিমন এমন কেউ নয় যে না দেখে ঐ ঘটনা বিশ্বাস করে তার বিচার করলে আমাদের কোন ক্ষতি হয়ে যাবে।
মোজাম্মেল মাস্টার বললেন, ‘ বিশ্বাস এবং সত্যকে এক করে ফেলবেন না। যা সত্য তা আপনি বিশ্বাস করলেও সত্য, না করলেও সত্য। আর যা বিশ্বাস করেন তা সত্য হতেও পারে নাও হতে পারে। যা সত্য তা সব সময়ই বাস্তব। আর বাস্তবতা আমাদের বিশ্বাসের অপেক্ষায় থাকে না।’ একটু থেমে তিনি আবার বললেন, ‘করিমনও আমাদের মতো রক্তমাংসে গড়া মানুষ। উপযুক্ত বিচার পাবার অধিকার তারও আছে। তারও কিছু বলার থাকতে পারে।’
অবনি বাবু সক্রিয় হয়ে উঠল, ‘এতো বড় একটা কুকর্ম করার পরে আবার কি বলবে ঐ করিমন। আমরা যে শাস্তি দিব তা ওকে মানতেই হবে।’
মোজাম্মেল মাস্টার অবনি বাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘উপযুক্ত প্রমান ব্যতিরেকে কাউকে শাস্তি দিলে বিচার কার্য সম্পন্ন হবে ঠিকই তবে ঐ বিচার চিরদিন প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে।’
জনতার মধ্য থেক দাবি উঠল করিমনকে উপস্থিত করে তারপর তার বিচার করার। বশিরউদ্দিন বুদ্ধিমান লোক। জনতাকে উত্তেজিত হবার সুযোগ দিল না। দাঁড়িয়ে সবাই কে শান্ত করে বলল তাদের ইচ্ছাই পূরণ হবে, করিমনকে এখানে উপস্থিত করেই তার বিচার করা হবে।
কিন্তু যাকে নিয়ে এতো হাঙ্গামা সেই করিমনকে কিভাবে উপস্থিত করা যায় তা নিয়ে বিপত্তি দেখা দিলো। করিমন কোথায় গিয়েছে তা কেউই জানে না। কমল ভট্টাচার্য বলল করিমনের মেয়ের বাড়িতে কাউকে পাঠিয়ে খবর নেয়া যেতে পারে। কিন্তু তার মেয়ের বাড়ির ঠিকানা কেউ সঠিক ভাবে দিতে পারলো না। দুই বছর আগে এ গ্রামে মাটি কাটার কাজ করতে আসা মোতালেবের সাথে করিমনের মেয়ে বুচির বিয়ে হয়। পাঁচ সাত গ্রাম পরে মোতালেবদের গ্রাম – এর বেশি আর কেউ বলতে পারলো না। এতো আয়োজনের পর এরকম একটা বিচার ভেস্তে যাবে এ কথা ভেবে বশিরউদ্দিনের মাথা গরম হয়ে উঠলো। এমন সময় জনতার একাবারে সামনের দিকে থাকা মন্টু মিয়া তার পাশে বসা ফরিদুলকে বলল, ‘কি গো ফরিদুল, আমি জানতাম করিমন তোর আত্মীয়। তুইও কি ওর মেয়ের বাড়ি চিনিস না।’
কথাটা কানে লাগা মাত্রই বশিরউদ্দিন ঘোষণা করল, ‘যেহেতু ফরিদুল করিমনের আত্মীয় সেহেতু করিমনকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব তার এবং আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাকে এই কাজ করতে হবে।’
সমাবেশ শেষে একে একে জনতা প্রস্থান করল। বোকাসোকা ফরিদুল ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। বশিরউদ্দিনের দিকে চোখ তুলে কথা বলার স্পর্ধা তার নেই। ভয়ে ভয়ে রুস্তম মোল্লার দিকে তাকিয়ে বলল সে ঐ গ্রাম চেনেই না। এইটুকু বলে কেঁদেই ফেলল। গত তিন বছরের অভিজ্ঞতায় সে বুঝতে পেরেছে বশিরউদ্দিনের আদেশ অমান্য করলে তাকেই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। হাত দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে মাটির দিকে তাকিয়ে আবার বলল, ‘একজনের অপরাধে আরেক জনকে শাস্তি দেয়া হবে এটা কেমন বিচার।’
রুস্তম মোল্লা ফরিদুলকে একটা কড়া ধমক দিলো, ‘তোমাকে এখনো কোন শাস্তি দেয়া হয় নাই। শুকরিয়া করো মিয়া, তোমাকে অনেক সময় দেয়া হইছে।’ মোজাম্মেল মাস্টার কিছু একটা বলতে গিয়েও বললেন না। আপাতত নিশ্চুপ থাকাই শ্রেয়তর মনে করলেন।
ফরিদুলকে অবশ্য কষ্ট করতে হলো না। দু’দিন পরে করিমন নিজেই এসে উপস্থিত। এ গ্রামে আশ্রয় পাবার উপযুক্ত জায়গা এখন কোথায় সে টুকু বোঝার মতো জ্ঞান তার আছে। তাই আর কোথাও না গিয়ে সরাসরি বশিরউদ্দিনের বাড়িতে। কোলে তিন মাস বয়সী একটি সন্তান, সাথে তার মেয়ে বুচি। করিমনকে দেখে বশিরউদ্দিন হতবাক। বশিরউদ্দিন কিছু বলার আগেই করিমন কেঁদেকেটে বুক ভাসিয়ে বলল মেয়ে হয়েছে বলে বুচিকে তার স্বামী তালাক দিয়েছে। এখন এই দুধের বাচ্চাকে নিয়ে তারা কোথায় যা্বে। বশিরউদ্দিন যদি চোখ তুলে না তাকায় তাহলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। আসল ঘটনা বুঝতে বশিরউদ্দিনের আর বাকি রইল না। তাই কোন কথা না বলে বাড়ির ভিতরে চলে গেল। উঠানে বসে করিমন অঝোর ধারায় কাঁদতে রইল। বুচি নির্বিকার। জীবনের সব কান্না গত তিন মাসে সে কেঁদে ফেলেছে। আধা ঘন্টা পরে একটা পান চিবাতে চিবাতে বশিরউদ্দিন বের হয়ে এলো, ‘আমার কাছে যখন আসছ তখন ব্যবস্থা একটা হবে। ভিতরে গিয়া ছোট বেগমের সাথে দেখা করো। বাড়িতে অনেক কাজ কর্ম আছে। আর আমি ম্যানেজারের সাথে কথা বলে দেখি। চাতালে লোক লাগতে পারে।’
করিমনের কান্না থামল না। তবে প্রসঙ্গ পাল্টালো। এবার দুই হাত উপরে তুলে বশিরউদ্দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এমন মিনতি করতে লাগল মনে হলো ভবিষ্যৎ বুঝি বর্তমানেই ধরা দিবে। সারাক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল বুচি। একবার শুধু বশিরউদিনের দিকে তাকাল। বুকের ভিতরটা খচ্‌ করে উঠল। ভয় হলো – পেটের জ্বালা নিভাতে গিয়ে আবার শরীরের জ্বালায় পুড়তে হবে না তো?

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top