সিডনী রবিবার, ৩রা জুলাই ২০২২, ১৯শে আষাঢ় ১৪২৯

নিভৃতে বাসা গড়ি (অনু গল্প) : ময়ূরী মিত্র


প্রকাশিত:
২৬ এপ্রিল ২০২২ ১৫:৪৬

আপডেট:
৩ জুলাই ২০২২ ১৩:৪৩

 

কিছুদিন ধরে দুটি মুসলিম কিশোরীর সাথে বেশ সখিত্ব হয়েছে আমার৷ খুব ভোর ভোর তারা আমার বাড়ি আসে৷ বাড়ির কিছু কাজকর্ম করে৷ তারপর পায়ের থেকে বড় সাইজের চটি ফটফট করতে করতে চলে যায়৷
ছোটটার সর্বদাই মুখে খই৷ হাঁটা চলায় নদীর স্রোতের ঢেউ৷ বড়টা শান্ত৷ তার সমস্ত শরীর ঢাকা একটি কালো বোরখায়৷ জিজ্ঞেস করি- বোরখা পরিস কেন? ফিক করে হেসে ছোটটির উত্তর- দূর ওতো শীতে গরম হওয়ার জন্য৷ শীত শেষ বোরখাও সুটকেসে৷
মাঝে মাঝে খবর নি- ওরে তোদের গাঁয়ে হিন্দু মুসলিম বেশ মিলেমিশে থাকিস তো? উত্তর - তা তুমি আমাদের ভাব কী দিদি? বন্ধু বান্ধবদের সাথে ঝগড়া করে মরব নাকি? প্রতিদিন এইসব নানারকম প্রেমকথায় আমায় তৃপ্ত করে দুই রাধাকিশোর ৷ দুটো পাখি যেন অবিশ্রাম ডেকে ডেকে আমায় ফ্রেশ করে দিয়ে যায় ৷
গরম কচুড়ি খেতে ভালোবাসে বলে রোজ তাদের কিছু করে পয়সা দি ৷ আজ সকালে একটু মন খারাপ লাগছিল ৷ রক্তজাত সম্পর্কের মানুষ হেলাফেলা করলে যেমন আর কিছু করার থাকে না তেমনই একা লাগছিল নিজেকে ৷ ফলে আজ কিশোর বান্ধবদের সাথে গল্প করার মন ছিল না ৷ শুধু একবার বললাম - উঠতে পারছি না ৷ তোরা ব্যাগ থেকে পয়সা নিয়ে নে না ৷
খেযাল করলাম খলবলে মেয়েটা আর তার একটু শান্ত দিদিটা, দুজনেই আজ কেমন চুপচাপ ৷ ট্যারা চোখে বিছানায় আমার শুয়ে থাকা দশাটা লক্ষ্য করেছে কাজের ফাঁকে ফাঁকে ৷ আরো খানিক চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো ৷ তারপর বললে - আজ থাক দিদি ৷ কাল সুস্থ হয়ে আগে গপ্প তারপর কচুড়ি ৷ বলেই দুড়দাড় পালাল ৷ দিনের শুরুতেই আমার আঁজলায় পরজনের ভালোবাসা ৷ ঠিক করেছি কাল তাদের পরিয়ে দেব দু ডজন কাঁচের চুড়ি৷ দুরকম রঙয়ের ৷ তাতে অপ্প একটুস রুপালি চিকমিক ৷
অচেনা মানুষের ভালোবাসার মিঠে স্বাদ ৷ এতো দেখি - রাতের বেলা মাঠে খেলতে সাধ হয় ৷ সেদিন আমার বন্ধু কস্তুরী বলছিলেন - পাহাড়ে রাতের কালোটাও দারুণ লাগে ৷ কেন বলেছিলে কস্তুরী? পাহাড় উঁচু বলে নাকি গাঢ় কালোতে নক্ষত্র বেশি ঝলকায় বলে?

 

ড. ময়ূরী মিত্র
গদ্যকার, বিশেষ শিশুদের প্রশিক্ষক ও নাট্যশিল্পী 
পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top