সিডনী শনিবার, ৩১শে অক্টোবর ২০২০, ১৫ই কার্তিক ১৪২৭

একা এবং একা (পর্ব পনের) : আহসান হাবীব


প্রকাশিত:
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫:১২

আপডেট:
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৬:২৮

 

(আহসান হাবীব মূলত একজন প্রফেশনাল কার্টুনিস্ট। তিনি পেশাগত কারণে সাধারনত কমিকস, গ্রাফিক নভেল ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেন। তিনি যখন লিখেন তখন তার মাথায় থাকে কমিকস বা গ্রাফিক নভেলের কনটেন্ট। তার গল্পের পিছনে থাকে স্টোরি বোর্ডের মত ছবির চিত্রকল্প। এই কারণেই তার লেখায় একটা সিনেমাটিক ড্রামা থাকে প্রায়শই। তিনি মনে করেন যেকোনো গ্যাজেটেই/ফরম্যাটেই হোক, স্ক্রিনে যে গল্প পাঠক পড়ছে, সেখানে তার সাব-কনসান্স মাইন্ড ছবি খুঁজে। আর তাই ‘প্রভাত-ফেরী’র পাঠকদের জন্য তার এই ধারাবাহিক ইন্ডি নভেল ‘একা এবং একা ’ )

 

পর্ব- পনের

কুটুম ঘরের নিচু ছাদে হঠাৎ হঠাৎ একটা দুটো শিক বাঁকা হয়ে বের হয়ে আছে, ওটা ধরে থাকা যায়। কিন্তু মৌলিক প্রশ্ন একটাই, কতক্ষন ধরে থাকবে মারুফ? মারুফ মুখ বিকৃত করে দাঁতে দাঁত চেপে আছে; কারণ তার ডান পায়ে তীব্র ব্যথা, বিষাক্ত মাছের ঘাই না ইলেকট্রিক ঈল ফিশের শক ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। তবে দুটোর একটার  কোনো একটা ঘটেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তীব্র ব্যথা আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পরছে তার ডান পায়ের উরু পর্যন্ত।

-মনে রাখবে কুটুম ঘরে যে দুদিন বা তিনদিন থাকবে সেখানে তোমাকে এক দানা খবারও দেয়া হবে না। কাজেই মনে রাখতে হবে পাকস্থলিতে যে খাবারটুকু নিয়ে কুটুম ঘরে ঢোকা হয়েছে, সেটাই জাবর কাটতে হবে গরুর মত
-মানুষ জাবর কাটে নাকি?
-হা হা হা , বাস্তবে হয়ত কাটে না কিন্তু কল্পনায় জাবর কাটতে দোষ কোথায়? স্বয়ং আইনস্টাইন বলেছেন জ্ঞানের চেয়ে কল্পনা জরুরী ...

অন্ধকার ঘরটা চোখে সয়ে এসেছে মারুফের অনেকখানি। প্রফেসর তাহলে জানত তাকে এই ঘরে আসতে হবে? তাই তাকে কুটুম ঘরের গল্প শুনিয়ে প্রস্তুত করেছে! মারুফ বুঝতে পারছে না সে আসলে কার সাথে খেলছে ইন্সপেক্টর সারোয়ার খান না কি এই প্রফেসর? নাকি তারা দুজনেই এক সঙ্গে খেলছে মারুফের সঙ্গে?

মারুফ টের পাচ্ছে নিচের থই থই পানিতে একটা আলোড়ন শুরু হয়েছে। তার মানে ভয়ঙ্কর  মাছেরা টের পেয়েছে একজন  ঢুকেছে এই ঘরে; তারা তার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছে।

 

কুদ্দুস এক বস্ত্রে স্কুল ত্যাগ করেছে।

বের হওয়ার সময় তৈয়ব জিজ্ঞেস করেছে ‘কই যাও?’

-এই আইতাছি।

বলে কদ্দুস ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়ায়। গজ বিশেক দূরে এসে সে ছুটতে শুরু করে বাস স্ট্যান্ডের দিকে। যেকোনো মূল্যে তাকে বাড়ি যেতে হবে তারপর সাবিনাকে নিয়ে ভাগতে হবে দূরে কোথাও। কোথায় যাওয়া যায় দ্রুত চিন্তা চলে কুদ্দুসের মাথায়। প্রথম কক্সবাজারই যাবে, ওখানে দু একদিন সমুদ্রের হাওয়া খেয়ে প্ল্যান ঠিক করবে। অবশ্য ভাল লাগলে ওখানেই থাকা যায়, কিছু করে খাওয়ার টাকাতো সঙ্গে আছেই। তবে চেহারার কাটিং একটু বদলাতে হবে। তার চুল কান ঢাকা চুল, ছোট করতে হবে। আর গোফ রাখতে হবে। তার চেহারার রেকর্ড কোথাও নেই। স্কুলের ফাইলে এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ছিল, রুম গোছানোর নাম করে সেটা আগেই সরিয়েছে কুদ্দুস। একটা জিরো পাওয়ারের চশমা নেয়া যায়। আর ডান গালে একটা নকল তিল। সংঘর্ষ ছবিতে দেখেছে নায়ক জসিম এই কাজ করে; এক নকল তিলেই পুরো ছবিতে তাকে আর কেউ চিনতে পারে না!

রাত ন’টার মধ্যে বাড়ী পৌঁছে গেল কুদ্দুস। নিজের বাড়ি গেল না। সেখানে বুড়ো বাবা মা আর ছোট ভাইটা আছে। ওখানে পরে গেলেও চলবে। প্রথমেই গেল সাবিনাদের বাড়ি

-সাবিনা? সাবিনা??
-ক্যাডা?
-মামী আমি কুদ্দুস।

সাবিনার মা আসমা বেগম বের হয়ে আসলেন। তার দুই চোখ ফোলা। চুল এলোমেলো, কাপড়-চোপরও ঠিক নাই।

-মামী আপনার কি হইসে?

মামী আসমা বেগম ডাক ছেড়ে কেঁদে উঠলেন। ‘কুদ্দুইচ্চারে কুদ্দুইচ্চা তুই ক্যান সময়মত আইলি না... আমার সর্বনাশ হইয়া গেছে ! সাবিনা এক খেরেস্তান পোলার সাথে ভাগছেএএএ...!’ হতভম্ব কুদ্দুসের হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দেয় সাবিনার ছোট ভাই মতি। ক্লাশ নাইনে পড়ুয়া মতির কাজ এখন একটাই। কেউ এলেই সাবিনার লেখা চিরকুটটা ধরিয়ে দেয়। এই ডিউটিটা তার বেশ ভাল লাগছে। এই চিঠি পড়ে একেক জনের একেক রকম রিএ্যাকশন, এই ব্যাপারটা সে বেশ এনজয় করছে। বুবু যে নগদ চকচকা ৫০,০০০ টাকার একটা বান্ডিল মায়ের কাছে রেখে গেছে সেটা অবশ্য চেপে যায় বুদ্ধিমান মতি।

কাপা হাতে চিরকুটটা পড়ে কুদ্দুস...

মা,

আমি বরুন গোমেজরে ভালবাসি। জানি তার সাথে বিয়া তোমরা মাইনা নিবা না, সে অন্য ধর্মের। তবে সে মানুষ ভাল।  তাই তার হাত ধইরা বিদায় নিলাম। সে আমারে সুখে রাখবে। আমারে নিয়া চিন্তা কইর না। তুমি শরীরের যত্ন নিবা।

আর কুদ্দুস ভাইরে কইও তারে বিবাহ করা সম্ভব ছিল না।  সে যেন আমারে ক্ষমা করে।

ইতি  তোমার সাবিনা।

চিঠিটা হাত থেকে পরে যায় কুদ্দুসের। ধপ করে মাটিতে বসে পরে সে। ফ্যাঁস ফ্যাঁসে গলায় বলে ‘ও মতি, সাবিনার কাছে একটা ব্যাগ রাখছিলাম...’    

-ব্যাগ-বুগ কিছু নাই, বুবু সব নিয়া গেছে! মতি নিশ্চিত গলায় বলে। এই সময় কুদ্দুসের ছোট ভাই মফিজকে দেখা যায়।
-ভাইজান তুমি এইখানে? কখন আইছ?
-ক্যান কি হইছে?
-বাড়িত চল জলদি। তোমার খোঁজে ফাড়ি থাইকা পুলিশ আইছে! কোনমতে উঠে দাড়ায় কুদ্দুস।

-তুই যা আমি আইতাছি। ছোট ভাই চলে যেতেই টলতে টলতে সাবিনাদের বাড়ির বাইরে এসে দাড়ায় কুদ্দুস। তারপর হঠাৎ ছুটতে থাকে পাগলের মত...!

 

কক্সবাজার সী-বীচে এক তরুণের কাধে মাথা রেখে বসে আছে সাবিনা। পায়ের কাছে সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। উপরে নীল আকাশ। সাদা সীগাল উড়ছে। মোহনীয় পরিবেশ। সাবিনা ফিস ফিস করল

-আমরা তাহলে এখন স্বামী-স্ত্রী?
-হ্যাঁ এখন এক সাথে থাকতে আমাদের আর কোনো বাধা নেই। সাবু তোমারে একটা প্রশ্ন করব?
-টাকা নিয়া কোনো প্রশ্ন করবেন না
-না টাকা নিয়ে না।
-তাইলে করেন, কি প্রশ্ন?
-কক্সবাজার আসার বুদ্ধিটা তোমার মাথায় কিভাবে আসল?

খিল খিল করে হেসে উঠল সাবিনা।

-হাসলা ক্যান?
-টাকা যেখান থেকে আসছে কক্সবাজারের আইডিয়াও সেখান থাইকা আসছে। শুনেন আমি কিন্তু কলেজে পড়ব
-অবশ্যই পড়বা। আমরা একটা ছোট্ট বাড়ী ভাড়া করব। একটা ছোট্ট ব্যবসা শুরু করব...

-সবই ছোট্ট বড় কিছু নাই?
-বড়তো আছেই, অনেক বড়...
-সেইটা কি?
-ক্যান তোমার আমার ভালবাসা...।
-ইস... এই হাত সরান। কত মানুষ হাঁটতেছে দেখেন না।
-কই মানুষ? তুমি আমি ছাড়া তৃতীয় একটা মানুষও নাই এইখানে...

 

কুটুম ঘরে তৃতীয় দিন ভোরে  নতুন একজন ঢুকলো। অবাক হয়ে মারুফ দেখে প্রফেসর!

-আপনি?
-হ্যাঁ আমিই। হাসিমুখে বলে প্রফেসর। ‘তোমার কি অবস্থা?’
-আমার দু পাই মনে হচ্ছে প্যারালাইসড হয়ে গেছে। ব্যথা... মুখ বিকৃত করে মারুফ।
-গুড গুড। ব্যথা থাকবে না।
-কিন্তু আপনি কেন এখানে?
-তুমি কেন এখানে?
-সেটাও একটা প্রশ্ন বটে
-শোন বার বছর হয়েছে আমি এই জেলে, তোমার মতই যাবজ্জীবন আসামী। এই কুটুম ঘরেই এই নিয়ে ঢুকলাম তেরবার। আনলাকি তের বার বলতে পার।

-বলেন কি?
-তবে এখন আমি বেরুব এই জেলখানা থেকে। তুমিও আমার সঙ্গে বেরুচ্ছ। তোমার মত একজনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এই কুটুম ঘর থেকে বেরুতে হলে তোমাকে লাগবে আমার...।
-কিন্তু এই বদ্ধ ঘর থেকে বের হবেন কিভাবে?
-আজকে একটা বিশেষ দিন। মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই কুটুম ঘরের পানি বদলানো হয়। নিচের পানি আপনা আপনি একটা বড় সুরঙ্গ দিয়ে সরে যাবে এক ঘন্টার জন্য। তখন মাছগুলোও পানির সঙ্গে সরে যাবে। ঠিক এক ঘন্টা পর নতুন পানি ঢুকবে তার সঙ্গে সেই আগের ভয়ঙ্কর মাছগুলোও ঢুকবে।
-সুরঙ্গটা কোথায়?
-এই লোহার গ্রাফ করা মেঝের নিচে। আমরা সেই সুরঙ্গ দিয়ে বেরুব।
-কিন্তু এই লোহার মেঝে?
-বজ্র আটুনি ফস্কা গেরো জানোতো? এই লোহার গ্রাফ করা মেঝের এক কোনায় খোলা যায়। আমি জানি। আমি কি তেরবার এখানে এমনি এমনি ঢুকেছি? এই কুটুম ঘর নিয়ে রীতিমত গবেণষনা করেছি, কি ভাবে এখান থেকে বের হওয়া যায়। যাহোক এখন প্রস্তুত হও...
-কিন্তু আমিতো আমার পা নাড়াতেই পারছি না
-পারবে। এই টেবলেটটা খেয়ে ফেল। ভয় নেই আমি সবরকম প্রস্তুত হয়েই এসেছি এখানে। মারুফ টপ করে গিলে ফেলল ছোট্ট হলুদ টেবলেটটা ।

কুটুম ঘরে চিৎকার করে কথা বললেও কেউ বাইরে থেকে কিছু শুনতে পাবে না। কিন্তু তারপরও  প্রফেসর হঠাৎ গলা নামিয়ে ফিস ফিস করলেন ‘মারুফ, যদি আমরা ব্যর্থ হই  তাহলে মৃত্যুকে গ্রহণ করতে হবে ঠান্ডা মাথায়!’ প্রফেসর একটু থামলেন মৃদু হেসে বললেন - ‘প্রাচীণ মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো মৃত্যুর পর তাদের দুটো প্রশ্ন করা হবে, তুমি কি পৃথিবীতে আনন্দে ছিলে? সেই আনন্দের কিছু কি সঙ্গে করে এনেছ?’ মারুফ তাকিয়ে দেখে প্রফেসরের চোখ অন্ধকারেও চক চক করছে!  

হঠাৎ সরসর করে পানিতে শব্দ হতে শুরু করল। প্রফেসর চিৎকার করলেন

-মারুফ গেট রেডি! পানি সরছে।

তিনি হটাৎ একরকম লাফ দিয়ে ঘরের ডান কোনায় চলে গেলেন বসে পরলেন নিচু হয়ে, তারপর ঘটাং করে একটা শব্দ হল। কিছু একটা খুলে ফেললেন তিনি। মারুফ অবাক হয়ে দেখে প্রফেসরের হাতে লোহার জালির একটা টুকরো প্রফেসর চিৎকার করলেন ‘জলদি চলে এস...’ মারুফ এগিয়ে গেল আশ্চর্য তার পায়ে এক ফোটা ব্যথা নেই, তবে পাটা ভারী ভারী লাগছে।

-জালির নিচে সুরঙ্গটা দেখতে পাচ্ছ?
-পাচ্ছি
-তুমি আগে নাম। চিৎ হয়ে প্রথমে পা ঢুকাবে তারপর আস্তে আস্তে পুরো শরীর। আমি ঢুকবো সোজা হয়ে।
-কিন্তু উল্টো হয়ে ঢুকবো কেন?
-প্লিজ কোনো প্রশ্ন করবে না। আমাদের হাতে সময় মাত্র এক ঘন্টা। গেট ডাউন। সুরঙ্গের ভিতর আরো অনেক কিছু করতে হবে আমাদের...

নিচের সমস্ত পানি সরে গেছে। জালির নিচে প্রচন্ড পিচ্ছিল একটা চৌবাচ্চার মত তার মধ্যে দেয়ালে দেড় বা দু ফিটের একটা সুরঙ্গ, সেই সুরঙ্গে চিৎ হয়ে আগে পা ঢুকিয়ে ঢুকে গেল মারুফ প্রফেসরের নির্দেশ মত। তার পিছে সোজা হয়ে ঢুকলো প্রফেসর। দুজনের মাথা মাঝে মাঝে লেগে যাচ্ছে। দুজনে আস্তে আস্তে এগুতে লাগল পিচ্ছিল সুরঙ্গ দিয়ে। বার বার নাকে এসে লাগছে বিশ্রী স্যাঁত স্যাঁতে গন্ধ! মাঝে মাঝেই পিছন থেকে মারুফের কাধ ধরে ধাক্কা দিচ্ছেন প্রফেসর পিচ্ছিল সুরঙ্গ দিয়ে সর সর করে এগিয়ে যাচ্ছে মারুফ উল্টো হয়ে এক অদ্ভুত কায়দায়।

এভাবে কতক্ষন চলেছে মারুফ জানে না। হটাৎ পায়ে কি বাধল।

-প্রফেসর পায়ে কি বাধল

- রাইট এখন তোমার কাজ। লাথি দাও যত জোড়ে পার, দু পায়ে এক সাথে। তোমার পায়ে শক্তি আছে আমি জানি। এই জন্যই তোমাকে সঙ্গে আনা। মারুফ লম্বা করে শ্বাস নিল তারপর দু পা ভাজ করল, সরু সুরঙ্গ, খুব বেশী ভাজ করতে পারল না। তার শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে জোড়া পায়ে লাথি দিল। ঝনন করে কিছু একটা ভাঙল।

-গুড। এটা আমাদের প্রথম বেরিকেড। আরো দুটো এরকম আছে সামনে। জলদি এগোও।

প্রফেসর তার হাতের রেডিয়াম ঘড়ির দিকে তাকালেন। বিশ মিনিট গন। আর হাতে আছে চল্লিশ মিনিট। দুজনই দ্রুত এগুচ্ছে। একটু বাদেই দ্বিতীয় বেরিকেড, আবার জালি মাঝখানে অবশ্য বড় ফুটো হয়ত মাছ ঢোকার জন্য কিন্তু একজন মানুষ বের হতে পারবে না।

-প্রফেসর আবার বেরিকেড
-আগের মত লাথি দাও জলদি কর, সময় কিন্তু বেশী নেই।

ঠিক আগের মতই লাথি দিল জোড়া পায়ে তবে এক লাথিতে হল না তিনবারে গিয়ে ভেঙে পড়ল দ্বিতীয় বেরিকেডটা। আবার যাত্রা শুরু...

তৃতীয় এবং শেষ বেড়িকেডটা দ্রুতই চলে এল। মারুফ লাথি মারতে শুরু করল। মনে হচ্ছে এটা আগের গুলোর চেয়ে অনেক কঠিন বেরিকেড। একবার দুবার তিনবার। ঠিক তখনই  সুরঙ্গের ভিতর গুম গুম শব্দ শোনা গেল। চেচিয়ে উঠলেন প্রফেসর

-মারুফ জলদি, সময় শেষ। ওরা পানি ছেড়ে দিয়েছে; বেরিকেড ভেঙে আমাদের এখনই বেরুতে হবে।

মারুফ পাগলের মত লাথি দিতে লাগলো... ওদিকে সুরঙ্গের ভিতর গুম গুম করে ছুটে আসা পানির শব্দ ক্রমেই বাড়ছে। ভয়ঙ্কর মাছগুলোও নিশ্চয়ই ছুটে আসছে নতুন পানির সঙ্গে... মারুফের হৃদপিন্ডটা মনে হচ্ছে গলার কাছে এসে ধ্বক ধ্বক করছে!! পেছন থেকে প্রফেসর চিৎকার করছে ‘মারুফ, জলদি! জলদি...!!’ 

(চলবে)

একা এবং একা - পর্ব এক
একা এবং একা - পর্ব দুই
একা এবং একা - পর্ব তিন
একা এবং একা - পর্ব চার
একা এবং একা - পর্ব পাঁচ
একা এবং একা - পর্ব ছয়
একা এবং একা - পর্ব সাত
একা এবং একা - পর্ব আট
একা এবং একা পর্ব- নয়

একা এবং একা - পর্ব দশ
একা এবং একা - পর্ব এগারো
একা এবং একা - পর্ব বারো
একা এবং একা - পর্ব তের
একা এবং একা - পর্ব চৌদ্দ

 
লেখক: আহসান হাবীব
কার্টুনিস্ট/ সম্পাদক
উম্মাদ, স্যাটায়ার কার্টুন পত্রিকা
 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top